Header Ads

আফ্রিকার দেশগুলো চীনের দিকে ঝুঁকছে, এবার কী করবে যুক্তরাষ্ট্র?

                                          

আফ্রিকার দেশগুলো চীনের দিকে ঝুঁকছে, এবার কী করবে যুক্তরাষ্ট্র?




ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নতুন আমদানি শুল্ক আফ্রিকার অনেক দেশের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে ওই মহাদেশের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার খুঁজছে। আর ঠিক এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন।

নাইজেরিয়ার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বিসমার্ক রেওয়ানে সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা (আফ্রিকা) সরাসরি চীনের হাতে চলে যাচ্ছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অংশীদার হয়েছে চীন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বাণিজ্য নীতিতে আফ্রিকার চারটি দেশ—লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার রপ্তানির ওপর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৮টি আফ্রিকান দেশকে ১৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এই শুল্ক ‘পারস্পরিকতার ভিত্তিতে’ আরোপিত। কিন্তু বাস্তবে এটি নির্ধারিত হয়েছে ওই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির ওপর ভিত্তি করে, অন্য দেশের ধার্য করা শুল্কের উপর নয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০ শতাংশ শুল্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ‘উপলব্ধ বাণিজ্য তথ্যের যথাযথ প্রতিফলন নয়।’

চীন ইতোমধ্যেই আফ্রিকার সঙ্গে প্রায় সব রপ্তানিপণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষক নিও লেটসওয়ালো বলেছেন, ‘এখনই সময় দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য জোরদার করার, আর আফ্রিকাকে এখন চীনের দিকে ঝুঁকতে হবে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে নবীন শিল্পখাতের জন্য। সুরক্ষা না দিলে, সস্তা চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে।’

চীন-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের মতে, চীনও কিছু বাণিজ্য চুক্তিতে আফ্রিকার সঙ্গে ভারসাম্যহীন আচরণ করেছে। আফ্রিকা থেকে চীনে মূলত কাঁচামাল রপ্তানি হয়, আর চীন থেকে আসে শিল্পজাত পণ্য।

আফ্রিকার দরিদ্র দেশ লেসোথো ১৫% শুল্কের আওতায় পড়েছে, যদিও আগে তাদের জন্য শুল্ক ছিল ৫০%। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্যামুয়েল মাতেকানে জানিয়েছেন, এই বিশাল শুল্ক আর মার্কিন সহায়তা বন্ধের ফলে হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

লেসোথো ইতোমধ্যে দুই বছরের ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল শিল্প প্রায় ধ্বংসের মুখে রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সাইট্রাস খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার টন কমলা ও লেবু রপ্তানির জন্য প্রস্তুত থাকলেও শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে, বলে জানিয়েছে সাইট্রাস গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন।

অটোমোবাইল খাতও হুমকির মুখে রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধের হুমকি দিয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ বেকারত্বকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার খনিজ ও জ্বালানিমন্ত্রী গুয়েদে মানতাশে বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীন। তাই বিকল্প বাজার খুঁজে বের করতে হবে।’

গবেষক লেটসওয়ালো সতর্কতা দিয়ে বলেন, একদিকে চীনের দিকে ঝুঁকতে হবে, অন্যদিকে আফ্রিকাকে নিজস্ব বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আফ্রিকান কনটিনেন্টাল ফ্রি ট্রেড এরিয়া (এএফসিএফটিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত মাত্র ২০টি দেশ কার্যকরভাবে এতে অংশ নিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ রেওয়ানে বলেন, ‘এই শুল্ক আমাদের শিখিয়েছে—আফ্রিকাকে বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমাদের আরও বেশি ভেতরের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, বাইরের ওপর নয়।’

No comments

Powered by Blogger.