২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ছাড়াবে এক ট্রিলিয়ন ডলার
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টির পরিকল্পনা হাতে নেবে। একই সঙ্গে, দলের লক্ষ্য দেশের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা সিঙ্গাপুর, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশের মডেলে গড়ে তোলা। এই তথ্য সেমিনারে বক্তারা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সারিনায় অনুষ্ঠিত ‘রাউন্ডটেবিল অন স্কিলিং বাংলাদেশ: অ্যাডভান্সিং দ্য স্কিলস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ইকোসিস্টেম ফর ন্যাশনাল গ্রোথ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় দেশে বেকার সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সেমিনারে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু অনেকেই চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন, কারণ তারা ডিগ্রি পেলেও দক্ষতার অভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে বিএনপি দেশের শিক্ষা ও দক্ষতা ক্ষেত্রে বড় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় কোটি কোটি দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ যদি এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়, তাহলে আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারব। দেশের তরুণ সমাজকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে বিএনপি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে।
সেমিনারে প্রধান প্রবন্ধে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে বাজারভিত্তিক ও দক্ষতামূলক করা হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু সনদ নয়, বাস্তব কাজে সক্ষম মানবসম্পদ তৈরি করা হবে। দেশের ৬৪ জেলায় অবস্থিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো আধুনিক দক্ষতা এবং চাকরির কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হবে।
ড. হায়দার আরও জানান, নারী, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের অর্থনীতিতে যুক্ত করার জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ, সনদ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তাদের মূল অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানটি গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনারশিপ নেটওয়ার্ক (জিইএন) বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আশিক ইসলাম, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ও নারী উদ্যোক্তা মাহমুদা হাবিবা, জিইএনের এমডি কে এম হাসান রিপন এবং স্কিল ও মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান প্রমুখ।


No comments