Header Ads

মানুষ জীবন দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, পিআর পদ্ধতির জন্য নয়

                                   

মানুষ জীবন দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য, পিআর পদ্ধতির জন্য নয়




বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, পিআর পদ্ধতিতে ভোট হবে নাকি আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন হবে—এজন্য কেউ জীবন দেয়নি। তারা চেয়েছেন গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূতি ও শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা এখন ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পড়েছেন, তারা নানা কৌশলে নির্বাচনকে জটিল করে তুলছেন। অথচ সমাধান একটাই—নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। জনগণ তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিকে চেনেন, যিনি সুখে-দুখে পাশে থাকেন। শুধুমাত্র প্রতীক দেখে ভোটার কীভাবে প্রার্থীকে চিনবেন? পিআর পদ্ধতিতে এমনও হতে পারে, ভোলার সংসদ সদস্য কুড়িগ্রামের বাসিন্দা!

হাফিজ বলেন, এক শহীদ পিতার বক্তব্য ছিল—শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন, তা এখনও পূরণ হয়নি। এটা খুবই কষ্টদায়ক। কারণ বর্তমান সরকার কেউই জুলাই চেতনার ধারক নয়। গত ১৫ বছরে উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি। কেবল ড. আসিফ নজরুল মাঝে মধ্যে কিছু কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে একসময় শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বিপ্লবের পর যারা জীবন দেন, তাদের মূল্যায়ন হয় না। অনেকেই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজের নামে নিতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার, এখন তা দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখে—এর কৃতিত্বও আওয়ামী লীগ নিয়েছে। তারা ক্ষমতায় এসে আত্মীয়-স্বজনকেও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে ৩৪ দল। এই দুই পক্ষের জনসমর্থন পর্যালোচনা করে বিচার করুন। যারা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তারা আজ বলে তারা ভুল করেছে। এসব বলার সুযোগ কোথা থেকে পেল? আমরা মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়েছি, আহত হয়েছি—এমন বক্তব্য শুনলে কষ্ট লাগে। তবে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এখনো সাহসী। তারা দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

বক্তব্য দেন প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলও। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করেছেন, অন্যদিকে বড় বড় প্রকল্পের নামে লুটপাট চালিয়েছেন। এখন জুলাই বিপ্লবের কথা বলে কিছু সংগঠন সংস্কারের নামে এনসিপির ব্যানারে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। মূলধারার রাজনীতি থেকে সরে গেছেন তারা। শহীদদের সম্মান নষ্ট করে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর অধিকার নেই।

শহীদ আসাদুল ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমার সন্তান পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। কিন্তু এক বছরেও বিচার দৃশ্যমান হয়নি। যে বাহিনী হত্যায় জড়িত, তারাই তদন্ত করছে—এটা প্রহসন। সংস্কারের নামে আমাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সমকামিতার বৈধতা দেয়ার জন্য আমাদের সন্তানেরা জীবন দেয়নি।

শহীদ রবিউল ইসলাম লিমনের চাচা মোল্লা আহমেদ সাইদ টুলু বলেন, শহীদ সন্তানের মা-বাবা জানেন সন্তান হারানোর বেদনা কতটা গভীর। এক বছরেও বিচার কতটা অগ্রগতি হয়েছে? আদৌ কি আমরা বিচার পাবো? তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখনো অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতে ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী দোসররা। আর্মির একজন মেজরের মাধ্যমে আওয়ামী কর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নতুন করে শহীদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশ্ন তুলেছেন, গত এক বছরে এসব ষড়যন্ত্রকারীদের কেন চিহ্নিত করা যায়নি?

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোহবান, এ্যাবের সাবেক মহাসচিব আলমগীর হাসিন আহমেদ, আইইবি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খান এবং আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সদস্য প্রকৌশলী লোকমান।

অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম, আসাদুল ইয়ামিন, রবিউল ইসলাম লিমন, রাব্বি মিয়া, রাকিব হোসাইন, আহনাফ আবির, অয়ন এবং রুদ্রর পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

শুরুতেই শহীদদের স্মরণে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে গুম, খুন, নির্যাতন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.