দাঁতের ক্ষয় থেকে হতে পারে মুখের ক্যান্সার, যেভাবে সতর্ক থাকবেন
দাঁতের গুরুত্ব ও আমাদের অবহেলা
বাংলা প্রবাদে বলা হয়, "দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝা উচিত"। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ দাঁত। খাওয়া, কথা বলা, এমনকি মুখাবয়বের সৌন্দর্য রক্ষায়ও মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্যবিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা প্রায়ই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির যত্নে অবহেলা করি। আর এই অবহেলা থেকেই শুরু হতে পারে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি—যেমন মুখের ক্যান্সার।
দাঁতের ক্ষয় কীভাবে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে?
প্রথমে সামান্য প্লাক ও দাঁতের ক্ষয় দিয়ে শুরু হলেও সময়মতো চিকিৎসা না করালে তা মাড়ির রোগ এবং ধীরে ধীরে ওরাল ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। দাঁতের ফাঁকে খাবারের কণা জমে প্লাক তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে ক্যালকুলাস বা টার্টারে পরিণত হয়। এটি দাঁত ও মাড়ির মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ, ইনফেকশন এবং ক্ষয় ধীরে ধীরে ক্যান্সার সেল তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ
-
মুখে ঘা যা সহজে সারছে না
-
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
-
জিভে ব্যথা বা সাদা ছোপ
-
দাঁতের আশপাশে ফোলা বা গুটির মতো বোধ
-
মুখ খুলতে বা গিলতে কষ্ট হওয়া
এই লক্ষণগুলো অবহেলা না করে সময়মতো ডেন্টাল ও ওরাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিভাবে বেসিক ওরাল হাইজিন রক্ষা করবেন?
✅ দিনে দুইবার ব্রাশ করা
প্রতিদিন সকালে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করুন। এতে ব্যাকটেরিয়া প্লাক তৈরি করতে পারে না।
✅ ফ্লসিং ব্যবহার
ব্রাশ দিয়ে যে অংশে পৌঁছানো যায় না, সেখানে ফ্লসিং করে দাঁতের ফাঁকে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার করুন।
✅ লবণ পানি দিয়ে কুলি
প্রতিদিন রাতে বা অন্তত একবার গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলি করুন। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং মাড়ির প্রদাহ কমায়।
✅ সুস্থ খাদ্যাভ্যাস
চিনি ও অ্যাসিডযুক্ত খাবার কম খান। বেশি পানি পান করুন এবং ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন।
সচেতনতা ও নিয়মিত চেকআপের গুরুত্ব
ওরাল হেলথ উপেক্ষা করা শুধু দাঁতের সমস্যা ডেকে আনে না, বরং এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, এমনকি মুখের ক্যান্সার পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই প্রতি ৬ মাসে একবার হলেও ডেন্টাল চেকআপ করুন।
উপসংহার
দাঁতের ক্ষয় কোনো সাধারণ সমস্যা নয়। এর থেকে জন্ম নিতে পারে ভয়াবহ রোগ, এমনকি জীবনঘাতী মুখের ক্যান্সারও। তাই দাঁতের প্রতি অবহেলা না করে, সময় থাকতে সচেতন হন।
বেসিক ওরাল হাইজিন মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।
📌 সংক্ষেপে মনে রাখুন:
-
দিনে দুইবার ব্রাশ করুন
-
ফ্লসিং ও লবণ পানি ব্যবহার করুন
-
মিষ্টি খাবার কমিয়ে দিন
-
প্রতি ৬ মাসে ডেন্টাল চেকআপ করুন
-
মুখের কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন


No comments