Header Ads

আসনপ্রতি তিনজন প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে বিএনপি

 
                                                    

আসনপ্রতি তিনজন প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে বিএনপি



ছয় মাস হাতে রেখে নির্বাচনী ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ট্রেনে জোর গতিতে চলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। যাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বৃহত্তম এই দলে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ধাপে ধাপে জরিপও চালিয়েছে দলটি, যা এখনো শেষ হয়নি। বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া জরিপের ফলাফল ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। কয়েকটি আসনে ব্যতিক্রম ছাড়া কমপক্ষে ২৩০টি আসনের প্রতিটিতে তিনজন করে প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য বা ‘আমলনামা’ তৈরি করা হয়েছে, যা নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। প্রার্থীদের সর্বশেষ অবস্থাসহ তালিকা এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। তিনি চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দুই শতাধিক আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি কর্মপরিকল্পনা করেছে। কমপক্ষে ৭০টি আসনে সমমনা দলগুলোকে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জোট গঠন নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার জানান, নির্বাচন সামনে রেখে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সমমনাদের নিয়ে জোট হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সমমনা যারা আছে, যাদের নিলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব, তাদের নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা হবে। এখনো জোটের কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা হয়নি, তবে জোট করব না এমনও নয়।’ তিনি এ কথা বলেন রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

দলের প্রবীণ নেতা ও পর্যবেক্ষকদের মতে, যোগ্য প্রার্থী বাছাই বিএনপির অন্যতম বড় দায়িত্ব। এ জন্য ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কয়েক ধাপে জরিপ করা হয়েছে। দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, প্রার্থী মূল্যায়নে দলীয় শৃঙ্খলা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, গণমানুষ ও তরুণদের সঙ্গে সম্পর্ক, নেতৃত্ব, দক্ষতা, ত্যাগ ও সততা—সব কিছু গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে আগে জরিপে এগিয়ে থেকেও অনেক নেতা মনোনয়নের তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, টেন্ডারবাজি, উপদল সৃষ্টি, ব্যক্তিস্বার্থে আদর্শ বিসর্জন ও অন্য দলের সঙ্গে আঁতাতের কারণে। এসব অপরাধে যুক্তদের আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে, পর্যবেক্ষণসহ পৃথক প্রতিবেদনও প্রস্তুত হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু নেতার পদ স্থগিত, বহিষ্কার কিংবা সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে, বাদ পড়াদের তালিকা তত বড় হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বরে প্রার্থী মূল্যায়ন শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছরের শুরুতে ৩০০ আসনেই জরিপ করা হয়, যেখানে ইউনিয়ন ওয়ার্ড থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ‘অরাজনৈতিক’ ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়—যেমন শিক্ষক, ছাত্র, সরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও দোকানি। জরিপ পরিচালকেরা কখনোই জানাননি এটি বিএনপির উদ্যোগে হচ্ছে, কারণ উদ্দেশ্য ছিল মাঠ পর্যায়ে দলের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই। জরিপে চারজন সংস্কারপন্থী প্রার্থীকে অনেক অংশগ্রহণকারী ‘যোগ্যতম প্রার্থী’ হিসেবে মত দিয়েছেন।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্তত ৮০ জন নেতার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। অন্য আসনগুলোয় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণের কাজ চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ইতিমধ্যেই ইসিকে চিঠি দিয়েছে। সন্দেহ কেটে গিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখন মাঠে সক্রিয়। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন প্রায় আড়াই হাজার; এবার সে সংখ্যা ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা মাঠে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের খসড়া তালিকা তারেক রহমানের কাছে দেবেন। তিনি পর্যবেক্ষণ দিয়ে তালিকা চূড়ান্ত করবেন। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের সাক্ষাৎকার নেবে পার্লামেন্টারি বোর্ড ও স্থায়ী কমিটি। এরপর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মতামত নিয়েই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা হবে। লন্ডন থেকে তারেক রহমান প্রতিটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর খোঁজখবর রাখছেন এবং অনেকে সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, তারিখ ঘোষণার পর প্রার্থিতা আহ্বান, স্থানীয় কমিটির মতামত, সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। অতীতে আন্দোলনে সক্রিয়দেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, আজ বিকেল ৩টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি শরিকদের জন্য সম্মানজনক হারে আসন ছাড়বে, কারণ আন্দোলনে শরিকরা সব সময় বিএনপির সঙ্গে রাজপথে ছিল।

No comments

Powered by Blogger.