Header Ads

নগদ-বিকাশ ছাড়াও ভাতা পাওয়া যাবে, নিজের নিবন্ধিত সিমে

                                                 

নগদ-বিকাশ ছাড়াও ভাতা পাওয়া যাবে, নিজের নিবন্ধিত সিমে




এখন থেকে ভাতা গ্রহণ করতে হলে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধিত সিম কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক। শুধু নগদ, বিকাশ বা এজেন্ট ব্যাংকিং নয়—দেশের যেকোনো আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভাতার টাকা তোলা যাবে।

আগে ভাতা বিতরণ হতো জিটুপি (Government to Person) পদ্ধতিতে নগদ, বিকাশ ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। তবে জুলাই মাস থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এর লক্ষ্য হলো পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে ভাতার টাকা তোলার প্রবণতা বন্ধ করা।

আগে আবেদনপত্রে পরিবারের কারও মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করা যেত। অনেক গ্রামীণ বয়স্ক মানুষ মোবাইল ব্যবহারে অভ্যস্ত না হওয়ায় নাতি-নাতনি বা অন্য সদস্যদের নম্বর দিতেন। পরে অভিযোগ পাওয়া যায়, প্রকৃত ভাতাভোগী টাকা না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা তা তুলে নিয়েছেন। নতুন নিয়মে এ ধরনের অনিয়ম আর হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

নতুন নিয়ম

ভাতাভোগীকে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে নিবন্ধিত সিম কার্ড ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে এনআইডি, আঙুলের ছাপ ও ছবি ব্যবহার করে সেই নম্বরে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। ভাতার টাকা সরাসরি ওই অ্যাকাউন্টে যাবে। আগে তালিকাভুক্তদেরও ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়ায় আসতে হবে। তবে অনেক বয়স্ক মানুষের আঙুলের ছাপ পাওয়া না গেলে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হবে।

যাঁরা একেবারেই মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না, তাঁদের বিশেষ ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয় আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

কত ধরনের ভাতা

সমাজসেবা অধিদপ্তর বর্তমানে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, বেদে জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, চা জনগোষ্ঠী ও অনগ্রসর ভাতা বিতরণ করছে। এসব ভাতাভোগীর সংখ্যা সারা দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

১৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক পরিপত্রে জানায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও অন্যান্য নগদ অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে উপকারভোগীরা নিজেরাই আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক (এজেন্ট ব্যাংক) বেছে নেবেন। কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে না।

আগে নগদ ও বিকাশের সঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ বছরের চুক্তি ছিল। এর মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের জুন মাসে। জুলাই থেকে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় ভাতাভোগীরা নিজেদের সুবিধামতো প্রতিষ্ঠান বেছে নিচ্ছেন। অনেকে আগের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনও করেছেন।

অনিয়ম ও ব্যবস্থা

২০২১ সালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বেহুলা বেগম নামে এক ভাতাভোগী তালিকাভুক্ত হলেও টাকা পাননি। পরে জানা যায়, তাঁর দেওয়া নম্বরের পরিবর্তে তালিকায় ঢুকেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মৃত স্বামীর নম্বর, যেখানে টাকা চলে যাচ্ছিল। অভিযোগের পর স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয় ব্যবস্থা নেয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.