এবার ইসলামী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনগণ নির্বাচনের নামে স্বৈরতন্ত্রসমর্থক পুরনো বন্দোবস্ত পুনরায় ফিরে আসুক তা চায় না। এজন্য প্রয়োজনে রাজপথসহ সব ধরনের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে সংগঠন।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকের তথ্য বুধবার (২০ আগস্ট) সংগঠন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে আমির রেজাউল করীম বলেন, “গত বছরের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতা যে জীবন ও রক্ত উৎসর্গ করেছে তা শুধুমাত্র হাসিনার উৎখাতের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা রাজপথে এসেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দেশ যেন পুরনো অন্ধকারের দিকে ফিরে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তা হতে দিতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, স্বৈরতন্ত্র রোধের পরীক্ষিত ও কার্যকর পন্থা হিসেবে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আমরা রাজপথে পুনরায় অবস্থান গ্রহণ করবো। তরুণ শিক্ষার্থীদের রক্ত কোনো রাজনৈতিক দলের লোভের কারণে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। সেই অংশ হিসেবে আগামী ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের সব জেলায় গণসমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় প্রতিটি থানায় গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে পিআর পদ্ধতির পক্ষে জনমত জোরদার করতে প্রচার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
আমির বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আদায়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা নির্বাচন চাই, কিন্তু নির্বাচনের আড়ালে স্বৈরতন্ত্র সহায়ক পুরনো বন্দোবস্ত ফিরে আসুক তা চাই না। তাই রাজপথসহ সব ধরনের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ক্রমান্বয়ে কঠোর কর্মসূচির দিকে অগ্রসর হতে আমরা পিছপা হবো না।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য স্থাপন করে কমিশনে এজেন্ডা তুলুন এবং গণভোট করান। যারা পিআরের বিরোধিতা করছেন তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলছেন। তাই জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন। কোনো দল বিশেষের কাছে নতিস্বীকার করে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিবেন না।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম-মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আব্দুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল কাশেম। এছাড়াও সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মকবুল হোসাইন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী দেলাওয়ার হোসেন সাকী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী মোস্তফা কামাল, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী শেখ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম রুহুল আমীন, ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি রেজাউল করীম আববার এবং সদস্য মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী।


No comments