Header Ads

আসন পুনর্বিন্যাস বাতিলের দাবিতে ৩ জেলায় বিক্ষোভ

 
                                

আসন পুনর্বিন্যাস বাতিলের দাবিতে ৩ জেলায় বিক্ষোভ




আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও বাগেরহাটে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিভিন্ন সময়ে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিগুলো থেকে আসন বিন্যাস পূর্বের মতো না রাখলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

কুমিল্লা:

কুমিল্লা-৯ আসন পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সদর দক্ষিণ, লালমাই ও কুমিল্লা মহানগর দক্ষিণ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের দাবি—কুমিল্লা-৯ (সদর দক্ষিণ, মহানগর দক্ষিণ ১৯-২৭ নম্বর ওয়ার্ড ও নবগঠিত লালমাই উপজেলা) আসনের পুরোনো কাঠামো পুনর্বহাল করতে হবে।

বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, “এ আন্দোলন কেবল একটি আসন নিয়ে নয়, বরং এটি জনগণের অস্তিত্ব ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই।”
সমাবেশ থেকে জানানো হয়, আগামী ১২ আগস্ট লালমাই ও ১৩ আগস্ট সদর দক্ষিণে বিএনপি ও সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

নোয়াখালী:

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসন থেকে অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন বাদ পড়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদে গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও সদর উপজেলার অশ্বদিয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ করা হয়।

পরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সুধারাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যদি নেয়াজপুর ও অশ্বদিয়া ইউনিয়নকে আগের মতো নোয়াখালী-৪ আসনে না রাখা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়া হবে।

বক্তারা ছিলেন:
জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সলিম উল্যাহ বাহার হিরণ, সদর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মোতালেব আপেল, নেয়াজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন আলো, জেলা জাস্টিস ফর জুলাইয়ের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, অশ্বদিয়া নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা সেলিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাসান মাহমুদ তানসেন, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন সায়েম, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন রিয়েল এবং শহর জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম।

বাগেরহাট:

বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাবের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে জরুরি সভা করেছে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন:
পরিষদের আহ্বায়ক শেখ শাহেদ আলী রবি, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মন্টু, ড্যাব বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি ডা. লুৎফুল কবির ও সদস্য সচিব ডা. শামীম বেগ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কল্যাণ সমিতির জেলা সভাপতি গাজী মতিয়ার রহমান, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিরা।

সভায় বক্তারা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, চারটি আসন বহাল রাখতে হবে। তারা জানান, আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি না মানলে রোববার থেকে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু হবে।

অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মন্টু বলেন, “আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রস্তাব প্রত্যাহার না হলে লাগাতার কর্মসূচিতে যাব।

No comments

Powered by Blogger.