উপদেষ্টা আসিফের একক সিদ্ধান্তে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১২০০ কোটি টাকা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একক সিদ্ধান্তে সরকারের একটি প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতিরিক্ত ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সজীব ভূঁইয়াকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। চাঁদাবাজি, মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, এলাকায় তার বাবার প্রভাব বিস্তার, অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু, এমনকি ব্যক্তিগত খেয়াল পূরণে ক্ষমতার ব্যবহার—এসব অভিযোগ আগেই শোনা গেছে। এর পাশাপাশি এনসিপিকে (কিংস পার্টি) সহযোগিতা করার অভিযোগও বহুদিন ধরে রয়েছে।
নতুন অভিযোগ প্রসঙ্গে পান্না জানান, উপদেষ্টা পরিষদের অন্যরা আপত্তি জানালেও সজীব ভূঁইয়ার একক সিদ্ধান্তে একটি প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা গত রবিবার একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
পান্না আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শুরুতে প্রতিটির ব্যয় ধরা হয় ৫১ লাখ টাকা। পরে তা ধাপে ধাপে বেড়ে ১৪ কোটির বেশি দাঁড়ায়।
২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩১টি মিনি স্টেডিয়ামের জন্য ব্যয় হয়েছিল মোট ৬৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি স্টেডিয়ামের খরচ ছিল প্রায় ৫১ লাখ টাকা। এরপর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হলে ব্যয় এক লাফে বেড়ে প্রতিটি স্টেডিয়ামের জন্য ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বেশি ধরা হয়। পান্নার মতে, আওয়ামী লীগ সরকারও তখন ব্যাপক দুর্নীতি করেছে, আর এই প্রকল্প তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। বলা হচ্ছে, ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসও দেশে-বিদেশে গিয়ে একই অভিযোগ তুলছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তার নিজের সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা কী করছেন? কথিত গণ-অভ্যুত্থান বা গণবিপ্লবের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে দাবি করা হয়েছিল, এটি কি তারই নমুনা?


No comments