দল গোছানোর কাজ শেষ করতে চায় বিএনপি
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি নানামুখী তৎপরতা জোরদার করেছে। বিশেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংগঠন গোছানোর কাজ শেষ করতে চায় দলটি। এ জন্য জেলা, মহানগর ও তৃণমূলে সম্মেলন চলছে। এসব সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত থাকছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক তদারকি করছেন। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর জানায়, চলতি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত ১০টি জেলায় সম্মেলন হবে। ইতিমধ্যে গত রোববার রাজশাহী মহানগরে ও গতকাল সোমবার নওগাঁ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে গত শনিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কাউন্সিলকে, যেখানে গোপন ব্যালটে নেতা নির্বাচন হয়েছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, এভাবে কমিটি গঠন গণতন্ত্র চর্চার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যদিও কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ থেকে আসা বা ক্ষমতাসীন আমলে সুবিধাভোগীদের কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দলকে শক্তিশালী করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা নানা কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন এসব কর্মসূচিতে। হাইকমান্ড চাইছে নির্বাচনের আগে সংগঠন গোছানোর কাজ শেষ করতে, যাতে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্যাবের নির্বাচন গণতন্ত্র পরিচর্যার অংশ। তিনি নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।
বিএনপির সাংগঠনিক জেলা শাখা ৮২টি হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে মাত্র ২০টিতে। অর্ধশত শাখায় সম্মেলন হয়নি। সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থাও দুর্বল। অনেক কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ, তৃণমূলে অনেক যোগ্য নেতা কর্মবিমুখ হয়েছেন, কেউ কেউ বিদেশে চলে গেছেন। গত বছরের আগস্টের পর বহু ‘হাইব্রিড’ নেতা দলে ভিড়তে তৎপর হয়েছেন।
দলটি ২০২4 সালের ২৫ নভেম্বরের মধ্যে সারা দেশে তৃণমূলে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবদের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিলেটে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বরিশালে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, রংপুরে শামসুজ্জামান দুদু, কুমিল্লায় বরকত উল্লাহ বুলু, চট্টগ্রামে আহমেদ আযম খান, ফরিদপুরে ড. আসাদুজ্জামান রিপন, খুলনায় আমানউল্লাহ আমান, রাজশাহীতে আব্দুস সালাম এবং ময়মনসিংহে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল দায়িত্বে আছেন।
এখনো বহু জেলায় সম্মেলন বাকি, বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, খুলনা, ফরিদপুর ও রংপুর বিভাগের বেশ কিছু জেলা-মহানগরে বহু বছর ধরে হয়নি। উদাহরণস্বরূপ খুলনা বিভাগের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা জেলা, ফরিদপুর বিভাগের মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর, এবং রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় সম্মেলন হয়নি। এসব জেলায় চলতি মাস ও আগামী মাসে সম্মেলন হবে। ২০ আগস্ট হবিগঞ্জ, ৩০ আগস্ট নেত্রকোনা, ১৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার এবং ৩০ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলায় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।
ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ জানান, সাংগঠনিক কর্মসূচির কারণে সময়মতো কাজ শেষ হয়নি, তবে শিগগিরই মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরে কমিটি গঠন হবে। সিলেট বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল শেষ করা সম্ভব হয়নি, তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব জেলায় শেষ করার পরিকল্পনা আছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর গতকাল নওগাঁ জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে সেখানে সম্মেলন হয়েছিল। ২০১৫ সালে কমিটি বিলুপ্তির পর আর সম্মেলন হয়নি। ২০২২ সালে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম চলছিল। গত ২৪ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সভায় ১১ আগস্ট সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হয়। এছাড়া ১৬ বছর পর গত শনিবার রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন হয়েছে, যদিও সেখানে ভোটাভুটি হয়নি। ওই রাতেই সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুল হক (মন্টু) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়কারী আব্দুস সালামের নির্দেশে মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।


No comments