কলিমউল্লাহ সাহেব কট, কামাল ভাই’ এবার আপনার পালা
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল জানিয়েছেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে আজ বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিজের ফেসবুক পেজ ‘কথা’য় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মাসুদ কামাল বলেন, “আমি এই বিষয়ে কথা বলছি, কারণ আমার একটি ভিডিওতে কয়েকজন দর্শক মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যগুলো এসেছে আমার ইউটিউব চ্যানেল ‘অন্যমঞ্চ’-এ। আজ সেই চ্যানেলে ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছি, যেখানে তিনি এনসিপি ও সরকার নিয়ে কথা বলেন।”
তিনি আরও বলেন, “সেই ভিডিওতে বেলাল হোসেন নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘অন্যমঞ্চ রেখে নিরাপদে চলে যান। এবার আপনার পালা কামাল ভাই, কলিমউল্লাহ স্যার কট।’ এখন প্রশ্ন হলো—কলিমউল্লাহ সাহেবের গ্রেপ্তারের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? আমার নামে দুদকে কোনো মামলা নেই। আমি মামলাহীন ব্যক্তি। তাহলে আমাকে কেন চলে যেতে হবে?”
মাসুদ কামাল বলেন, “কলিমউল্লাহ সাহেব এবং আমি—দুজনেই টকশোতে অংশ নিই এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলি। কেউ কেউ হয়তো তার বক্তব্যকে আক্রমণাত্মক মনে করতে পারেন। তবে তিনি আমাকে বলেছিলেন, তিনি তথ্য ছাড়া কিছু বলেন না। আমার ‘অন্যমঞ্চ’ চ্যানেলেও তিনি একাধিকবার এসেছেন। এমনকি গত জুনেও, যখন দুদকের মামলাটি হয়, তিনি চ্যানেলে এসেছিলেন। আমি তার কাছে মামলার অভিযোগগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করেছি, তিনি উত্তরও দিয়েছেন। সেগুলো গ্রহণযোগ্য কিনা, তা দর্শকেরা মূল্যায়ন করবেন। এ বিষয়ে আমার নিজস্ব কোনো মন্তব্য নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার পর এক সাংবাদিক তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘গুজবের ফ্যাক্টরি কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধুবাদ।’ সেই সাংবাদিক কলিমউল্লাহ সাহেবকে ‘গুজবের ফ্যাক্টরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমার মতে, তাকে গুজব ছড়ানোর কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উপাচার্যের দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচনা করতেন, তখন অনেকে তাকে বাহবা দিত। এখন আবার কেউ কেউ তাকে গুজবের ফ্যাক্টরি বলছেন—এ ধরনের মন্তব্য আমার ভালো লাগেনি।


No comments