মার্কিন পারমাণবিক হুমকি নিয়ে এবার প্রতিক্রিয়া জানাল রাশিয়া
মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাশিয়ার কাছাকাছি মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন অবস্থান ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এতে দুই পরাশক্তির মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কা আবার জেগে উঠেছে।
শুরুতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও এবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। তারা বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।
ক্রেমলিন সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং এ নিয়ে কোনো প্রকাশ্য বিতর্কে জড়াতে চায় না।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন রাশিয়ার আরও কাছাকাছি মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সময় থেকেই ট্রাম্প এবং রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে মাত্র দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। এর জবাবে মেদভেদেভ ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেন "চূড়ান্ত আলটিমেটামের খেলা" খেলায়, যা সরাসরি যুদ্ধের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার শামিল বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প পাল্টা বলেন, মেদভেদেভ একজন ব্যর্থ সাবেক প্রেসিডেন্ট যিনি এখনো নিজেকে ক্ষমতায় ভাবেন এবং তিনি বিপজ্জনক পথে হাঁটছেন।
এর জবাবে মেদভেদেভ ‘ডেড হ্যান্ড’ নামক সোভিয়েত যুগের স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে হুঁশিয়ারি দেন। এই অনলাইন বাকযুদ্ধ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “মার্কিন সাবমেরিন মোতায়েনের বিষয়টি নতুন কিছু নয়, এমন সাবমেরিন আগে থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন থাকে। আমরা এ নিয়ে বিতর্কে যেতে চাই না।”
ট্রাম্প আরও হুমকি দিয়েছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ না করে, তবে শুধু রাশিয়ার ওপরই নয়, তাদের বড় জ্বালানির ক্রেতা ভারত ও চীনসহ কিছু দেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি জানান, শান্তি আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে রাশিয়ায় পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে পুতিনের সঙ্গে উইটকফের বৈঠক হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
পেসকভ বলেন, “আমরা উইটকফকে মস্কোতে স্বাগত জানাই। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ গঠনমূলক এবং ফলপ্রসূ বলেই মনে করি।”
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় ফিরলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি পুতিনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার টানা বোমা হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মেদভেদেভ ও ট্রাম্পের অনলাইন বিতণ্ডা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা পরমাণু অস্ত্রের মোতায়েন নিয়েও প্রভাব ফেলছে। যদিও ক্রেমলিন বলেছে, তারা একে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে না, তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আবেগপ্রবণ। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
মেদভেদেভকে দায়িত্বশীল মন্তব্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, “মূল বিষয় হচ্ছে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অবস্থান।


No comments