Header Ads

শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয় এলাকা রণক্ষেত্র

                

শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে সচিবালয় এলাকা রণক্ষেত্র



শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার সচিবালয়ের তিন নম্বর ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে পড়ে, এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সচিবালয়ের ভেতর থেকে সরাতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। আশপাশের এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৬৬ জন শিক্ষার্থী, যারা পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

সোমবার রাজধানীর দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ওঠে। শিক্ষার্থীদের দাবি সত্ত্বেও শিক্ষামন্ত্রণালয় দীর্ঘ সময় নিয়ে রাত ৩টার দিকে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে সেই খবর না পৌঁছায়, ফলে সকালে তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়েরের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেন ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ—ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ, আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, নূর মোহাম্মদ কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, কমার্স কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সিটি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর বলেন, “গোপালগঞ্জে সামান্য ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত হয়, কিন্তু সোমবার এত বড় দুর্ঘটনা ঘটার পরও দীর্ঘ সময়েও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। রাত ৩টার সময় স্থগিত ঘোষণা এসেছে, তখন অনেকেই জানতেই পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “সকালবেলা অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে গেছে। এটা দায়িত্বে অবহেলা। আমরা শিক্ষা সচিব ও শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান আরেফিন বলেন, “প্রশ্নপত্রে ভুলসহ নানা কারণে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ প্রয়োজন। সব বোর্ডে একই প্রশ্ন চালু করতে হবে। পাশাপাশি মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানাই।”

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়েরকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সরকার। এছাড়া অন্যান্য দাবিগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীরের বরাতে।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে তিন নম্বর গেইট ভেঙে তারা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ভেতরে থাকা কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ তখন লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়।

এরপর সচিবালয়ের সামনের এলাকা কিছুটা ফাঁকা হয়ে গেলেও জিরো পয়েন্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবারও পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেখানে বারবার সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

সচিবালয়ের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত, নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আমরা খুব ব্যস্ত, এখন কথা বলার সময় নেই।”

বিকেল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা গুলিস্তান ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিল। সচিবালয়ের কয়েকটি ফটক তখন খুলে দেওয়া হয়, ফলে ভেতরে আটকে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাইরে বেরিয়ে আসেন।

এরপর বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে পুলিশ গুলিস্তান দিক থেকেও সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয় বিকাল পৌনে ৬টার দিকে।

এদিকে সংঘর্ষে আহত ৬৬ শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। আহতদের মধ্যে আশিক (১৯), রাকিবুল হাসান (২১), আসাদ আহমেদ (১৮), হাসান (১৮), আফসানা (১৮), মুগ্ধ (১৯), অন্তর (২০), শাকিল (২৩), শাওন (১৯), তানসিন (২০), সিয়াম (১৮), মাহিম (১৮), রেদোয়ান ইসলাম (২০), হাসিব (১৮) এবং নেহাল (২০) নাম উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান রয়েছে এবং তারা বলছে—শুধু শিক্ষা সচিব নয়, শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।

No comments

Powered by Blogger.