গাজায় অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অপুষ্টির হার উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর গাজায় আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার মধ্যেই এই সতর্কবার্তা দিল ডব্লিউএইচও। রোববার (২৭ জুলাই) জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গাজায় উড়োজাহাজ থেকে ত্রাণ ফেলে। এর আগে ইসরায়েল জানায়, গাজার কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ‘কৌশলগত বিরতি’ দেওয়া হবে। এই বিরতির সময় জাতিসংঘের ত্রাণবহরের জন্য করিডর খোলা থাকবে বলে জানায় তারা।
ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজাবাসীকে অনাহারে রাখার যে অভিযোগ রয়েছে, তা মিথ্যা এবং এসব অভিযোগ হামাসের তৈরি। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, এসব অভিযোগ তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যৌথভাবে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ করছে। এরইমধ্যে তারা তিন দফায় ২৫ টন ত্রাণ ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি, মিসরের মাধ্যমে একটি ত্রাণবহর গাজায় প্রবেশ করেছে এবং আরেকটি বহর জর্ডান থেকে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
তবে রোববার গাজার মধ্যাঞ্চলে সালাহ আল-দিন সড়কে জাতিসংঘের ত্রাণবহরের আশায় জড়ো হওয়া মানুষের পাশে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৯ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানান চিকিৎসকেরা। নুসাইরাতের আল-আওদা হাসপাতালে আহতদের নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুলির ঘটনাটি ঘটে নেতজারিন করিডরের কাছে। ওই এলাকাতেই মানুষ ত্রাণের অপেক্ষায় ছিলেন। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তাদের দিকে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি এগিয়ে এলে তারা সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় ত্রাণসহায়তা ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়ে। একাধিক সংস্থা গাজায় চরম খাদ্যসংকট ও অনাহার পরিস্থিতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই চাপের মুখে ইসরায়েল কিছুটা নমনীয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানায়, গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছেন এবং প্রতি চারজনের একজন দুর্ভিক্ষসদৃশ অবস্থায় আছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, উড়োজাহাজ থেকে ত্রাণ ফেলা স্বস্তি আনতে পারে, তবে স্থলপথই ত্রাণ সরবরাহের সবচেয়ে কার্যকর এবং টেকসই উপায়।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক। তিনি বলেন, “প্রতিদিন গাজায় ধ্বংস, হত্যাকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর অমানবিকতা চলছে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর প্রশাসন গাজায় আরও ত্রাণ পাঠাবে। তবে তিনি এটিও বলেন যে, এটি একটি আন্তর্জাতিক সংকট, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নয়।


No comments