এনসিপির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নেতাদের অসন্তোষ
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, সরকার এনসিপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেশের ১৩টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির বৈঠকে এ অসন্তোষের বিষয়টি উঠে আসে।
বৈঠকে অংশ নেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের ড. আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের ডা. মিজানুর রহমান।
বৈঠক শেষে এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বর্তমান সংকট নিরসনে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে না ওঠার জন্য সরাসরি সরকারকেই দায়ী করছি। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ, তাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই কমছে। এমনকি এনসিপি নেতারাও এখন আর জনমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নন।”
১২ দলীয় জোটের প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, “কিছু দল সরকার বা প্রশাসনের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এ বৈষম্য বন্ধ হওয়া জরুরি।”
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো নিরপেক্ষ উদ্যোগ দুর্বল না হয়। এনসিপিকে যে ধরনের সরকারি প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের পথে অন্তরায়। উত্তরা মাইলস্টোন ট্রাজেডি সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সামাজিক অব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।”
এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ। এনসিপিকে বিভিন্নভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।”
গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি বলেন, “সরকারকে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সচিবালয়কেন্দ্রিক আন্দোলন বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষ জাতীয় সনদের প্রত্যাশা করে। ৫ আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদ রুখতে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি।”
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, “সরকার এনসিপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্ন থেকেই যায়। এই সরকার আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। সংস্কার কমিশন যেন কোনো দলকে বাড়তি গুরুত্ব না দেয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছি। জুলাইয়ের ঐক্য ধরে রাখতে হবে এবং প্রতি মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বসার আহ্বান জানিয়েছি।”
এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। সবাই নির্বাচনকে সামনে রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য দৃশ্যমান করতে বলেছেন। মতপার্থক্য থাকলেও, দেশের মানুষ দলগুলোর ঐক্য দেখতে চায়। দলগুলো প্রশাসনকে আরও কার্যকর হতে বলেছে।


No comments