Header Ads

ভাইরাল জ্বর থেকে বাঁচতে যা করবেন

                            

ভাইরাল জ্বর থেকে বাঁচতে যা করবেন




ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে সাধারণভাবে ভাইরাল জ্বর বলা হয়। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের থেকে ভিন্ন, কারণ ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। সময় ও সহায়ক যত্নের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ভাইরাল জ্বরের জন্য দায়ী ভাইরাসের মধ্যে ফ্লু, ঠান্ডা লাগা, এবং কিছু গুরুতর শ্বাসযন্ত্রজনিত ভাইরাসও অন্তর্ভুক্ত।


ভাইরাল জ্বরের সাধারণ লক্ষণ

  1. উচ্চ তাপমাত্রা:
    শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হয়।

  2. ঠান্ডা লাগা ও ঘাম হওয়া:
    জ্বরের ওঠানামার সময় ঠান্ডা লাগা ও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

  3. মাথাব্যথা:
    হালকা থেকে তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

  4. সর্দি ও নাক বন্ধ:
    নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সর্দি পড়া সাধারণ উপসর্গ।

  5. শরীর ব্যথা ও ক্লান্তি:
    পেশি ও গাঁটে ব্যথা, যার কারণে শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত লাগে।

  6. গলাব্যথা ও কাশি:
    অনেক সময় গলা ব্যথা ও শুকনো বা ভেজা কাশি দেখা যায়।


ভাইরাল জ্বর প্রতিরোধে করণীয়

  1. নিয়মিত হাত ধোয়া:
    সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলুন, বিশেষ করে খাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে ফিরে আসার পর। কমপক্ষে ৬০% অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

  2. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:
    পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

  3. সচেতন আচরণ:
    কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক টিস্যু বা কনুই দিয়ে ঢাকুন। ব্যবহৃত টিস্যু সঠিকভাবে ফেলুন ও হাত ধুয়ে নিন।

  4. সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা:
    অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না যাওয়ার চেষ্টা করুন।

  5. টিকা গ্রহণ:
    যেমন ফ্লু-র টিকা। এটি ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।


ভাইরাল জ্বরের চিকিৎসা

ভাইরাল জ্বরের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো লক্ষণগুলো উপশম করা এবং শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করা। সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হলো:

  1. বিশ্রাম:
    পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে।

  2. প্রচুর তরল পান:
    শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পানি, ভেষজ চা বা ঝোল জাতীয় তরল পান করুন।

  3. ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ:
    অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন জ্বর ও ব্যথা উপশমে সহায়ক। তবে ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  4. ঠান্ডা সেঁক:
    কপাল, ঘাড় বা কবজিতে ঠান্ডা ভেজা কাপড় দিয়ে সেঁক দিলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

  5. সুষম ও হালকা খাবার খাওয়া:
    সহজপাচ্য, পুষ্টিকর খাবার শরীরকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।


গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

ভাইরাল জ্বরের উপসর্গ অনেক সময় অন্যান্য রোগের সঙ্গেও মিল রাখে। তাই উপসর্গ বেশি হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত

No comments

Powered by Blogger.