বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালেবান সরকারের পাশে দাঁড়ালো রাশিয়া
চার বছর আগে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে রাশিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় মস্কো এখন তালেবান সরকারের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল—এমনই জানিয়েছে আলজাজিরা।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “আমরা বিশ্বাস করি, আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আমাদের দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিকাশে গতি আনবে।”
এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে তাকে কাবুলে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়। ওই পোস্টে মুত্তাকি লেখেন, “এই সাহসী সিদ্ধান্ত অন্য দেশগুলোর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। স্বীকৃতি প্রক্রিয়ায় রাশিয়া ছিল সবচেয়ে এগিয়ে।”
এর আগেই রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। তখন থেকেই রাশিয়া-আফগানিস্তান সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল।
রাশিয়ার এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নজরে রয়েছে। কারণ, তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে এবং তালেবানের শীর্ষ নেতাদের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এসব কারণে আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। সেই সরকারকে রক্ষায় মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করলে সরকারটি একদিনও টিকতে পারেনি।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছিল মস্কো। এরপর থেকে তালেবানদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি তালেবানকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদার ও মিত্র হিসেবে দেখার কথা বলেন।
২০২২ ও ২০২৪ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার একটি প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে তালেবান প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে তালেবানদের শীর্ষ কূটনীতিকরা মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সবশেষ, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে মিত্র হিসেবে অভিহিত করেন। তার ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।


No comments