Header Ads

নুরের রাজনীতির গন্তব্য কোথায়?

                                               

নুরের রাজনীতির গন্তব্য কোথায়?




২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল হক নুর। পরের বছর ডাকসু নির্বাচনে ভিপি হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। এরপর অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক এবং নিজেকে সদস্য সচিব করে গঠন করেন ‘গণঅধিকার পরিষদ’। অভ্যন্তরীণ বিরোধে দলটি বিভক্ত হলেও ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নুর সভাপতি এবং রাশেদ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর দলটি নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পায়।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। আন্দোলনের সময় নুরুল হক নুর গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন সামনে রেখে নুরসহ যুগপৎ আন্দোলনের ছয় নেতাকে নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।

জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নুর। কিন্তু সেখানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান মামুন, যিনি দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে নুর সক্রিয় হলেও বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে, বিএনপি না জামায়াত—নুর কোন জোটে যাবেন? কারণ, নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে নুরের অবস্থান জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতোই; তারা পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় ও আগে স্থানীয় নির্বাচন চায়। সম্প্রতি দুটি দলের সমাবেশে অংশ নিয়ে নুরও পিআর ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের পক্ষে কথা বলেছেন।

তবে নুর দাবি করছেন, কোনো দলের সঙ্গে এখনো নির্বাচনী জোট হয়নি বা এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। কালবেলাকে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি, জামায়াতসহ সব দলের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি। ইসলামী আন্দোলন যুগপতে না থাকলেও আন্দোলনে নিজেদের মতো ভূমিকা রেখেছে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ রাজনৈতিকভাবে একটা বিকল্প চায়। সেই বিকল্প হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা দলীয় প্রতীক ট্রাকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নিজেদের অবস্থান যাচাই করতে চাই। এখনো কাউকে জোটে নিচ্ছি না, স্বতন্ত্র অবস্থানে কাজ করছি।”

বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিত হলে বিএনপিবিরোধী অবস্থান বদলে যাবে—এমন আলোচনার বিষয়ে নুর বলেন, “এটা অবাস্তব। আমি কারও বিরুদ্ধে না, আমি দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছি। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি নির্বাচনে জিতলে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছে। সেখানে যদি যুগপৎ আন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের বাদ দেওয়া হয়, তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্যোক্তা তো আমরা।”

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “আমরা আন্দোলনের সময় বিএনপির সঙ্গে ছিলাম, একইভাবে জামায়াতসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে। কারও সঙ্গে বৈরিতা নেই। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও সঙ্গে নির্বাচনী জোট হয়নি। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ৩০০ আসনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জামায়াত বা ইসলামী আন্দোলনের প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া মানেই জোট গঠনের বিষয় নয়। জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক হলেও তাদের একতরফা ঘোষণার পর বিষয়টি তারা সংশোধন করেছে।”

সবশেষে রাশেদ খান জানান, “আমরা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজস্ব অবস্থান থেকে কাজ করছি। তবে পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনে যারা ছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আগাবো।”

সারাংশ:
নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ এখনো বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী জোটে যায়নি। তারা নিজস্ব প্রতীক ও অবস্থান থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশলগত অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.