Header Ads

আগামী ১১ দিন দেশজুড়ে ‘উচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা’ ঘোষণা


                                 

আগামী ১১ দিন দেশজুড়ে ‘উচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা’ ঘোষণা



টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে প্রায় এক বছর হতে চলেছে, কিন্তু এখনো প্রকাশ্যে রাজনৈতিক ময়দানে ফিরতে পারেনি আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও দেশ ও বিদেশে ছদ্মবেশে তৎপর রয়েছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। তাদের কিছু অংশ গোপনে একত্র হয়ে সহিংসতা বা হামলার পরিকল্পনা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় সারা দেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) আশঙ্কা করছে, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইনে সংঘবদ্ধ প্রচারণার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী এ সময় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুর চালাতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার (২৮ জুলাই) দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা। চিঠিটি পাঠানো হয়েছে ডিএমপি কমিশনার, সিটি এসবি, বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম ও খুলনার স্পেশাল পুলিশ সুপারসহ দেশের সব জেলা পুলিশ সুপারের কাছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সামাজিক সংগঠনগুলো পয়লা জুলাই থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এই সময় বিতর্কিত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো দেশব্যাপী অনলাইন ও অফলাইনে উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। পাশাপাশি, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বা উসকানি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালানো হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের সব ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি, সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন সব যানবাহনে তল্লাশি, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, বিমানবন্দরের আশপাশে নজরদারি এবং মোবাইল পেট্রল বাড়াতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সাইবার পেট্রলিং এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের নির্দেশও রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের কিছু যুব ও ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মাঠে না থাকলেও অনলাইনে ‘ভার্চুয়াল স্কোয়াড’ তৈরি করেছে, যারা ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও ইউটিউবভিত্তিক চ্যানেল ব্যবহার করে সামাজিক অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশ থেকে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। যারা দেশে-বিদেশে বসে অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.