Header Ads

কাঁচকলার নানা উপকারিতা

                                

কাঁচকলার নানা উপকারিতা


                           

কলা একটি পরিচিত ও প্রিয় ফল। আমাদের অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কলা থাকে—পাকা হোক বা কাঁচা। যেমন পাকা কলায় পুষ্টিগুণ রয়েছে, তেমনি কাঁচকলা খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কাঁচকলা দিয়ে তরকারি, ভর্তা, ভাজি, চপ বা কাটলেট তৈরি করে খাওয়া যায়।

কাঁচকলার উপকারিতা:

১. অন্ত্রের জন্য উপকারী:
কাঁচকলায় আছে প্রতিরোধী স্টার্চ, যা এক ধরনের প্রিবায়োটিক। এটি অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। ফলে হজম ভালো হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, পেটফাঁপা ও আইবিএসের মতো সমস্যা কমে।

২. ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযোগী:
পাকা কলায় চিনির পরিমাণ বেশি হলেও কাঁচকলায় রয়েছে জটিল শর্করা। এতে গ্লাইসেমিক সূচক মাত্র ৩০, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় না। তাই ডায়াবেটিসে কাঁচকলা উপকারী।

৩. হজম ও পেটের রোগে সহায়ক:
প্রাচীনকাল থেকেই কাঁচকলা ডায়রিয়ায় পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি পেটে আলসার, সংক্রমণ ও বদহজম দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা পেকটিন ও প্রতিরোধী স্টার্চ সহজে হজম হয়।

৪. হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপে উপকারী:
এক কাপ সেদ্ধ কাঁচকলায় প্রায় ৫৩১ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। ফলে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রের কাজেও সহায়তা করে।

৫. ভিটামিন বি৬ ও অন্যান্য পুষ্টি:
কাঁচকলা ভিটামিন বি৬–এর ভালো উৎস। এক কাপ সেদ্ধ কাঁচকলা খেলে দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি৬–এর প্রায় ৩৯% পূরণ হয়। এই ভিটামিন ১০০-এর বেশি এনজাইম বিক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে ও হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া কাঁচকলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা দেহে প্রদাহ কমায়।

৬. গ্লুটেনমুক্ত বিকল্প:
যাদের গ্লুটেন অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের জন্য কাঁচকলা একটি নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। কাঁচকলা শুকিয়ে গ্লুটেনমুক্ত আটা তৈরি করা যায়।

৭. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর জন্য উপকারী:
কাঁচকলা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এটি মনোযোগ বাড়ায় এবং স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কমায়।


কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

১. হজমে সমস্যা:
যদিও কাঁচকলা হজমে সহায়ক, তবে অতিরিক্ত খেলে পেটে গ্যাস, পেটফাঁপা, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। এতে ফাইবার ও আয়রনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে।

২. দাঁতের জন্য ঝুঁকি:
কাঁচকলায় থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড ও শর্করা দাঁতের সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে।

৩. মাইগ্রেন ও অ্যালার্জি:
কাঁচকলায় টাইরামিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা কারও কারও মাইগ্রেন বাড়াতে পারে। হিস্টামিনের উৎস হিসেবেও এটি অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।

৪. কিডনি রোগীদের জন্য সতর্কতা:
কাঁচকলায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম থাকে। তাই যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদের কাঁচকলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


সারসংক্ষেপে:
কাঁচকলা অনেক উপকারি একটি খাবার। এটি হজম, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা এবং মস্তিষ্কের সুস্থতায় সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যাদের পেটে সমস্যা, মাইগ্রেন বা কিডনির অসুস্থতা রয়েছে—তাদের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মানা জরুরি।


No comments

Powered by Blogger.